
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি :
২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালের একটি লিফট টানা ১০ থেকে ১২ দিন ধরে বন্ধ থাকায় রোগী ও তাদের স্বজনদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। পাঁচ থেকে সাততলা পর্যন্ত গুরুতর অসুস্থ রোগীদের কাঁধে করে বহনের ঘটনাও ঘটছে নিয়মিত, যা অমানবিক কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লিফটটির মাদারবোর্ডের সার্কিট নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এটি বিকল রয়েছে। দ্রুত মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি তাদের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের আটতলা ভবনে র্যাম্প সিঁড়ি না থাকায় লিফট বন্ধ হলে রোগীদের একমাত্র ভরসা সাধারণ সিঁড়ি। এতে করে গুরুতর অসুস্থ, বয়স্ক ও অস্ত্রোপচার-পরবর্তী রোগীদের ওয়ার্ড কিংবা অপারেশন থিয়েটারে নিতে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে স্বজনদের।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের এক কর্মকর্তা বলেন, “২০২০ সালে ভবন নির্মাণের সময় র্যাম্প সিঁড়ি না রাখাটা বড় ধরনের ত্রুটি ছিল। এখন লিফট বন্ধ হলে রোগী পরিবহনে ভয়াবহ সমস্যা তৈরি হয়।”
লিফটের সামনে অপেক্ষমাণ রোগী শাহনাজ বেগম বলেন, “হাতে ক্যানুলা লাগানো অবস্থায় ২০ মিনিট দাঁড়িয়ে থেকেও লিফটে উঠতে পারছি না। সিঁড়ি ভেঙে ওঠার মতো শক্তি নেই।”
আরেক রোগী জহিরুল ইসলাম জানান, “একটা লিফট প্রায়ই বন্ধ থাকে, আর যেটা চলে সেটাও মাঝেমধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। পাঁচতলায় হেঁটে উঠতে হয়।”
সাততলায় ভর্তি রোগী আমেনা বেগম বলেন, “লিফটে উঠতে পারি না। শেষ পর্যন্ত পায়ে হেঁটে উঠতে হয়েছে।”
রোগীর স্বজন শাহ আলম বলেন, “আমার ভাইকে চারতলার অপারেশন থিয়েটারে কাঁধে করে নিতে হয়েছে। এটা অমানবিক কষ্ট।”
আরেক স্বজন শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “২৪ ঘণ্টা অপারেটর থাকার কথা থাকলেও সবসময় থাকেন না। ২০ মিনিট দাঁড়িয়ে থেকেও লিফটে উঠতে পারিনি।”
লিফট অপারেটর রাব্বি বলেন, “লিফটটির ধারণক্ষমতা ১ হাজার ৩০০ কেজি। কিন্তু অনেক সময় ১৮-২০ জন একসঙ্গে উঠে পড়ে। ওভারলোডের সিগন্যাল বাজলেও কেউ নামতে চায় না। এতে লিফটের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে।”
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রতিদিন আউটডোর ও ইনডোর মিলিয়ে ৮ থেকে ৯শ রোগী চিকিৎসা নেন এবং গড়ে ৫ থেকে ৬শ রোগী ভর্তি থাকেন। দুটি লিফট থাকলেও অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে প্রায়ই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেয়।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ফিরোজ জামান জুয়েল বলেন, “বর্তমানে একটি লিফট সচল রয়েছে। অপরটি কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ আছে। দ্রুত মেরামতের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
