
সাংবাদিকতা: হলো একটি মহান পেশা ও সমাজের আলোক বর্তিকা
জসিম মোল্লা,এডমিন (স্বাধীন কণ্ঠ)
সাংবাদিকতা কেবল একটি পেশা বা পরিচয় নয়; এটি মূলত সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে এক নিরন্তর লড়াই। একজন সাংবাদিকের পরিচয় তার কার্ডে নয়, বরং তার কলমের ধার এবং তথ্যের সত্যতায় নিহিত। সাংবাদিকতাকে নিচের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সংজ্ঞায়িত করা যায়:
১. সমাজের দর্পণ ও বিবেক
সাংবাদিকতা হলো সমাজের আয়না। সমাজের অসংগতি, অন্যায় এবং সাফল্যের চিত্রগুলো কোনো রঙ চড়ামুক্ত ভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরাই এর আসল কাজ। এটি মানুষের বিবেককে জাগ্রত করে।
২. রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ
গণতন্ত্রের তিনটি প্রধান স্তম্ভ (নির্বাহী, আইন ও বিচার বিভাগ) যদি ঠিকমতো কাজ না করে, তবে সাংবাদিকতা ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ হিসেবে সেগুলোর ওপর নজরদারি করে এবং ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
৩. শোষিতের হাতিয়ার
যাদের কথা বলার সুযোগ নেই, যারা ক্ষমতার দাপটে কোণঠাসা—সাংবাদিকতা তাদের কণ্ঠস্বর হয়ে দাঁড়ায়। এটি একটি সেবামূলক কাজ যা শোষকের বিরুদ্ধে এবং শোষিতের পক্ষে কথা বলে।
৪. ইতিহাসের তাৎক্ষণিক দলিল
বলা হয়, “Journalism is the first rough draft of history.” অর্থাৎ আজ যা সংবাদ হিসেবে পরিবেশিত হচ্ছে, ভবিষ্যতে তা-ই ইতিহাসের প্রধান উৎস হিসেবে গণ্য হবে।
৫. একটি সাহসী জীবনবোধ
সাংবাদিকতা মানেই প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে চলা। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সত্যকে উন্মোচন করা এবং কোনো চাপের কাছে মাথা নত না করাই হলো প্রকৃত সাংবাদিকতার বৈশিষ্ট্য।
সারকথা: সাংবাদিকতা হলো এক ধরনের সামাজিক অঙ্গীকার, যেখানে ব্যক্তিগত লাভের চেয়ে জনস্বার্থ এবং সত্যের জয়গানই সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার।

