পানছড়িতে প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) নেতা

পানছড়িতে প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) নেতা

পানছড়িতে প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) নেতা

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ( স্বাধীন কণ্ঠ)
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার পানছড়ি উপজেলায় প্রতিদ্বন্দ্বী আঞ্চলিক সংগঠনের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (গণতান্ত্রিক)-এর এক শীর্ষ নেতাকে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এতে পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।আজ শুক্রবার (২৭ মার্চ) সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে উপজেলার সূতকর্মা পাড়া (মানিক্যপাড়া) এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। নিহত নীতিদত্ত চাকমা (৫৮) ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর পানছড়ি উপজেলা সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বরকল দিক থেকে আসা প্রসীত বিকাশ খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফের একটি সশস্ত্র দল অতর্কিতভাবে নীতিদত্ত চাকমার ওপর হামলা চালায়। ৮-১০ জনের ওই সশস্ত্র গ্রুপটির নেতৃত্বে ছিলেন বিক্রম চাকমা নামে এক গ্রুপ কমান্ডার।হামলার সময় খুব কাছ থেকে তাকে লক্ষ্য করে একাধিক রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি গুরুতর আহত হন। পরে হামলাকারীরা দ্রুত রাবার ড্যাম এলাকার দিকে পালিয়ে যায়।গুলিবিদ্ধ নীতিদত্ত চাকমাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে পানছড়ি সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে খাগড়াছড়ি শহরের পার্ক সাইড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে সকাল আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চিকিৎসকদের মতে, তার বুকে ও পিঠে গুলি লেগেছিল, যা তার মৃত্যুর প্রধান কারণ।
নিহত নীতিদত্ত চাকমার বাড়ি পানছড়ি উপজেলার সূতকর্মা পাড়ায়। তিনি বর্ন চাকমার ছেলে।
ধারণা করা হচ্ছে, পার্বত্য চট্টগ্রামে সক্রিয় আঞ্চলিক সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। সাম্প্রতিক সময়ে এমন সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে।
ঘটনার পরপরই এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি সমীরণ চাকমা তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য না করলেও শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
পানছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ জানিয়েছেন, মরদেহ বর্তমানে খাগড়াছড়ির একটি হাসপাতালে রাখা হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তা স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Facebook Comments Box

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *