গজারিয়ায় বাস-প্রাইভেটকার সংঘর্ষে নিহত ৪,
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাস ও প্রাইভেটকারের সংঘর্ষে চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ৩টার দিকে উপজেলার তেতৈতলা হাঁস পয়েন্ট এলাকায় মহাসড়কের কুমিল্লামুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বরিশাল থেকে চট্টগ্রামগামী নিউ বলেশ্বর পরিবহনের একটি বাস (বরিশাল মেট্রো-ব-১১-০২৩৯) মহাসড়ক দিয়ে যাচ্ছিল। এ সময় তেতৈতলা হাঁস পয়েন্ট এলাকার একটি হোটেল থেকে একটি প্রাইভেটকার মহাসড়কে উঠে ইউটার্ন নিয়ে ঢাকার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে বাসটির সঙ্গে সেটির সংঘর্ষ হয়।সংঘর্ষে প্রাইভেটকারটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে গাড়ির চালক ঘটনাস্থলেই নিহত হন। প্রাইভেটকারে থাকা আরও চারজন গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় হামদর্দ জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সজল চন্দ্র সরকার তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।নিহতদের মধ্যে সাবিহা আক্তার (৬২) নামে এক নারীর পরিচয় পাওয়া গেছে। তার ব্যাগে থাকা জাতীয় পরিচয়পত্রের মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। তিনি ঢাকার ধানমন্ডির জিগাতলা এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে। নিহত অপর একজনের নাম লিটন মিয়া (৬৫) বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে নিহত চারজনের মধ্যে দুইজন পুরুষ ও দুইজন নারী রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
দুর্ঘটনার বিষয়ে বাসের এক যাত্রী মরিয়ম বেগম অভিযোগ করে বলেন, বাসটির চালক সম্ভবত নতুন ছিলেন। তার গাড়ি চালানোর দক্ষতা নিয়ে বাসের যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল।
খবর পেয়ে ভবেরচর হাইওয়ে থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে। তারা নিহতদের মরদেহ উদ্ধার এবং আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে। পরে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন মহাসড়ক থেকে সরানোর কাজ শুরু করা হয়।
ভবেরচর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, “বাসটি ঢাকা থেকে চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। অপরদিকে প্রাইভেটকারটি একটি হোটেল থেকে রং সাইড দিয়ে বের হয়ে ইউটার্ন নিয়ে ঢাকার দিকে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় বাসটির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ এবং নিহত ও আহতদের পূর্ণ পরিচয় নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে।