গোপন ভিডিও দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করলে বাংলাদেশের আইনে কীভাবে মামলা করবেন?
ডেস্ক রিপোর্টঃ স্বাধীন কণ্ঠ
অনেক সময় দেখা যায়, কোনো নারী তার ব্যক্তিগত বা অন্তরঙ্গ ভিডিও প্রেমিক বা পরিচিত কারও কাছে থাকে। পরে সেই ব্যক্তি যদি ভিডিওটি প্রকাশ করার ভয় দেখিয়ে টাকা, সম্পর্ক বা অন্য কোনো সুবিধা আদায় করতে চায়—তাহলে সেটি স্পষ্টভাবে একটি গুরুতর অপরাধ। বাংলাদেশের আইনে এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে।
বাংলাদেশে এই ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে প্রধান আইন হলো পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১২। এই আইনে পর্নোগ্রাফি তৈরি, সংরক্ষণ, প্রচার কিংবা কাউকে ব্ল্যাকমেইল করা—সবই শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
ধারা ৮(১): পর্নোগ্রাফি তৈরি বা ভিডিও ধারণ
যদি কোনো ব্যক্তি যৌন আচরণের ছবি বা ভিডিও তৈরি করে বা ধারণ করে, তাহলে এই ধারায় মামলা করা যায়।
শাস্তি: সর্বোচ্চ ৭ বছর কারাদণ্ড এবং জরিমানা।
ধারা ৮(২): পর্নোগ্রাফি দিয়ে ব্ল্যাকমেইল বা ভয়ভীতি
কেউ যদি কোনো ব্যক্তির গোপন ভিডিও বা ছবি ব্যবহার করে তাকে ভয় দেখায়, ব্ল্যাকমেইল করে বা সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করে, তাহলে এই ধারায় মামলা হবে।
শাস্তি: ২ থেকে ৫ বছর কারাদণ্ড এবং জরিমানা।
ধারা ৮(৩): ভিডিও বা ছবি প্রচার বা ছড়িয়ে দেওয়া
যদি কেউ সেই ভিডিও বা ছবি মোবাইল, ইন্টারনেট বা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেয়, তাহলে এই ধারায় মামলা করা যায়।
শাস্তি: কারাদণ্ড এবং জরিমানা।
থানায় মামলা করার পদ্ধতি
১. নিকটস্থ থানায় লিখিত অভিযোগ (এজাহার) দিতে হবে।
২. ব্ল্যাকমেইলের মেসেজ, কল রেকর্ড, স্ক্রিনশট বা ভিডিও থাকলে প্রমাণ হিসেবে জমা দিতে হবে।
৩. পুলিশ সাধারণত পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১২ এর ধারা ৮ অনুযায়ী মামলা রেজিস্টার করে তদন্ত শুরু করে।
মনে রাখবেন:
কারো সম্মতি ছাড়া ব্যক্তিগত ভিডিও ছড়ানো বা সেই ভিডিও দিয়ে ব্ল্যাকমেইল করা বাংলাদেশের আইনে গুরুতর অপরাধ। এর জন্য কারাদণ্ড ও জরিমানার বিধান রয়েছে।
আইন জানুন, সচেতন থাকুন এবং অন্যায় হলে আইনের সহায়তা নিন।